অন্যের কাছে নিজের মতামত প্রকাশ করবেন কিভাবে? - প্রিয়লেখা

অন্যের কাছে নিজের মতামত প্রকাশ করবেন কিভাবে?

ahnafratul
Published: October 26, 2017

মানুষের একটি চিরন্তন অভিযোগ হচ্ছে, ‘আমাকে কেউ বুঝতে চায় না’। দাবিটি যতটুকু যৌক্তিক, ঠিক ততটুকুই অযৌক্তিক। আপনি এবার হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন একটি দাবি একইসাথে যৌক্তিক আবার অযৌক্তিক হয় কি করে? এরিস্টটলের কথার মাঝেই তাহলে ফিরে যেতে হয় আমাদের। যে সমাজে বাস করে না, সে হয় পশু নয়ত দেবতা। মানব সমাজে বাস করবার জন্য তাই আমাদের প্রয়োজন নিজের কথাগুলো অন্যের কাছে ভালোভাবে ব্যক্ত করবার একটি প্রয়াস। প্রশ্ন হচ্ছে, অন্যের কাছে আমাদের কথা প্রকাশ করবার প্রয়োজনীয়তা এবং বাধ্যবাধকতাগুলো আসলে কি কিঃ

১) কিভাবে ‘না’ বলতে হয়, তা সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারাঃ
আপনার কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে না বা নিজের সাথেই একান্ত কিছু সময় কাটাতে ইচ্ছে করছে। এমন সময় প্রিয় একজন মানুষ এসে আবদার জানাল তার সাথে কোথাও যেতে হবে। কি করবেন আপনি? না করে দেবেন নাকি তার সাথে যাবেন? একদিকে রয়েছে দোটানা, অপরদিকে রয়েছে নিজের জন্য অবসর। প্রাধান্য কোনটিকে দেবেন, সেটি সম্পূর্ণ আপনার নিজের ইচ্ছায়। তবে এক্ষেত্রে যদি আপনি নিজের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দেন, তাহলে দুটো কাজ আপনাকে করতে হবে। ইতিবাচক ভূমিকায় প্রিয় মানুষটিকে বোঝাতে হবে যে আপনি সময়টুকু নিজের মত করে কাটাতে চান। তবে তার মনে কোন ধরণের কষ্ট দেয়া যাবে না। সে যেন আপনার ওপর কোন ধরণের বিরূপ মনোভাব নিয়ে স্থান ত্যাগ না করে। এক্ষেত্রে আপনার যোগাযোগ দক্ষতা অনেকটুকু সাহায্য করবে।

২) ‘কেউ বলেছে, তাই আমি…’ থেকে বের হয়ে আসুনঃ
কেউ আপনাকে একটা কথা বলেছে, অমনি আপনি কোন ধরণের বাছবিচার না করেই তার সুরে সুর মেলাতে শুরু করলেন। এই ধরণের চিন্তাভাবনা থেকে বের হয়ে আসুন। নিজের একটি ক্ষেত্র তৈরি করুন। অন্যদের বোঝান আপনার স্ট্যান্ডপয়েন্ট তাদের চাইতে কতটুকু জোরালো ও উপযুক্ত। কারো কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আখেরে নিজের জন্য অনেক সময় ক্ষতিই বয়ে আনতে পারেন আপনি।

৩) ‘আমি তোমার কাছে বাধ্য নই’-সত্যিই কি?
ধরুন, কারো সাথে আপনার মতের অমিল হল। এবার আপনার কাছে জানতে চাওয়া হল যে যুক্তিগুলো দিচ্ছেন, সেগুলোর যৌক্তিকতা কতটুকু। আপনি সমান তেজের সাথে জবাব দিলেন যে আপনি তার কাছে কোন কথা কিংবা কাজের জন্য বাধ্য নন। এই ধরণের কথা কিংবা মনোভাব কোন ধরণের ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসতে পারে না। আপনি তার কাছে বাধ্য নন সত্যি, কিন্তু তর্কের খাতিরে আপনি কেন তারচাইতে ভালো অবস্থানে আছেন তা যুক্তি দিয়ে বোঝান। মানুষ রাগের মাথায় অনেক কিছু বলে ফেলে যা কোন ধরণের সমাধান নিয়ে আসতে পারে না। এরচাইতে যদি যুক্তির সাহায্যে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করে নেয়া যায়, তাহলে উভয় পক্ষের জন্যই মঙ্গল।

৪) লুকিয়ে রাখবেন নাঃ
কথা লুকিয়ে রাখলে আখেরে ভালো কোন ফলাফল আসে না। অন্যের সাথে সহজ হোন, নিজ জায়গা থেকে সচেতন হোন। আপনার মনে কি আছে বা কি চলছে, তা সামনের মানুষটির জানার কথা নয়। তাই সবসময় নিজেকে অন্যের কাছে স্বচ্ছ রাখবার চেষ্টা করুন।

৫) আপনার মতামত গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এবার?
দেখা গেল, তর্কে আপনার মতামতকে কেউ মেনে নিচ্ছে না। কি করবেন? নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করবেন? জায়গা ছেড়ে উঠে আসবেন? রাগ করবেন? চেঁচামেচি করবেন? গবেষকরা বলছেন কিন্তু অন্য কথা। একেবারেই হতোদ্যম হয়ে পড়া চলবে না। আপনি চেষ্টা করুন। তাদেরকে বারবার বোঝাতে চেষ্টা করুন যে আপনার কথাটির যৌক্তিকতা কোন জায়গাটিতে রয়েছে। প্রয়োজনে খাতা কলম নিয়ে বসে যান। একটি কম্পেয়ারিং গ্রাউন্ড তৈরি করার চেষ্টা করুন। নিজের অবস্থানটি কোন কোন ক্ষেত্রে শক্ত তা হাতেকলমে প্রমাণ করে দিন।

কথা বলতে গেলে কিংবা তর্ক করতে গেলে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করা যেমন জরুরী, ঠিক তেমনি প্রয়োজন স্বচ্ছতার। জীবনের বাঁকে বাঁকে নানা ধরণের প্রতিকূলতা আসবে কিন্তু এই প্রতিকূলতাগুলো থেকে আপনাকে জয়ী হয়ে আসতে হবে।
আজ আর নয়। প্রিয়লেখার সাথেই থাকুন।