অনুপ্রেরণার গল্প- 'একজন বালকের শেষ ইচ্ছে' - প্রিয়লেখা

অনুপ্রেরণার গল্প- ‘একজন বালকের শেষ ইচ্ছে’

ahnafratul
Published: September 22, 2017

(হৃদয়স্পর্শী এই গল্পটি সংগ্রহ করা হয়েছে “Chicken Soup for the Soul” নামক বইটি থেকে। বইটিতে অসংখ্য ছোট ছোট মর্মস্পর্শী ও অনুপ্রেরণামূলক গল্প রয়েছে তবে অনূদিত এই গল্পটি একটু ভিন্ন কিছু। আসুন, জানুন এবং দেখে নিন ছোট্ট বালকের শেষ ইচ্ছাটি কেমন করে তাকে “মেক-আ-উইশ” ফাউন্ডেশনের প্রথম গ্রাহক হিসেবে নিজেকে স্থাপন করতে সাহায্য করেছিল। মৃত্যুর মুহুর্তটিতে কেমন করে মানুষ নিজেকে অন্যভাবে মেলে ধরতে পারে, তারই গল্প এটি। গল্পটি আপনাদের জন্য অনুবাদ করে দেয়া হল প্রিয়লেখার পাতায়)

২৬ বছর বয়সী তরুণী এই মা তাকিয়ে আছেন তার টারমিনাল লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ছেলের দিকে। তার মনটা দুঃখ ভারাক্রান্ত হলেও মনের মাঝে শক্ত একটা অনুভূতি কাজ করছে। অন্যান্য যে কোন পিতামাতার মতই এই মা চান, তার ছেলে যেন আর দশজনের মতই বেড়ে উঠতে পারে এবং সব স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। মরণঘাতক লিউকেমিয়ার জন্য এটি এখন আর সম্ভব নয়।
তাও মা চান তার সন্তানের স্বপ্ন যেন পূরণ হয়। ছেলের হাতটা নিজের হাতে তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন,
“বাবা বপসি, বড় হয়ে তুই কি হতে চেয়েছিলি? নিজের জীবনটা কেমন হবে তা নিয়ে কখনো ভেবেছিলি?”
“মা, বড় হয়ে আমি সবসময় একজন দমকল কর্মী হতে চেয়েছিলাম।” ছোট একটা শ্বাস ফেলে বলল বপসি। মা হেসে বললেন,
“আয় দেখি তোর স্বপ্ন আমরা পূরণ করতে পারি কি না।”

বপসির জীবনের শেষ ইচ্ছেগুলো পূরণ করা হচ্ছে

পরেরদিনই মা ছুটে গেল অ্যারিজোনার ফিনিক্সে অবস্থিত স্থানীয় একটি দমকল বিভাগের অফিসে। সেখানে তার দেখা হল দমকল কর্মী ববের সাথে, যার হ্রদয়টাও ছিল ফিনিক্স পাখির মতই বিশাল। ববের কাছে সবকিছু ব্যাখা করবার পর অসহায় মা এবার জানতে চাইলেন তার ছেলের শেষ ইচ্ছা পূরণ করবার জন্য তাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব কি না। ফায়ার ইঞ্জিনে চড়িয়ে তাকে যদি একপাক ঘুরিয়ে আনা যায়!

বব বলল, “দেখুন, আমরা এর চাইতেও ভালো কিছু বাচ্চাটার জন্য করতে পারি। আগামী বুধবার সকাল সাতটায় আপনার ছেলেকে তৈরি করে রাখলে আমরা পুরোদিনের জন্য তাকে আমাদের সাথে রেখে একজন দমকল কর্মীর সম্মান দিতে পারি। সে আমাদের ফায়ার স্টেশনে আসতে পারে, আমাদের সাথে খেতে পারে, কোথাও আগুন লাগলে আমাদের সাথে যেতে পারে, এমনকি পুরো নয় ইয়ার্ডের এই উঠোনটাও সেদিনের জন্য তার!”
বব আরো বলে চলল, “যদি তার শরীরের সঠিক মাপটি আমাদের দিতে পারেন, তাহলে তার জন্য আমরা একটি ইউনিফর্ম প্রস্তুত করে রাখব। তাকে সত্যিকারের একটি ফায়ার হ্যাট দেয়া হবে, যাতে থাকবে ফিনিক্স ফায়ার ডিপার্টমেন্টের ছবিযুক্ত চিপ্পি। রাবারের বুটও থাকবে তার পায়ে। সবকিছুই ফিনিক্সে তৈরি হবে, যাতে তাড়াতাড়ি তার জন্য এগুলো আমরা নিয়ে আসতে পারি।”

তিনদিন পর বপসিকে ফায়ারম্যান ববের হাত ধরে ঘুরতে দেখা গেল। তার পরনে দমকল কর্মীর পোষাক। হাসপাতালের বেড থেকে ফায়ার স্টেশন পর্যন্ত তাকে সম্মান দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বপসি নানাভাবে সাহায্য করল তাদের।
সেদিন তিনটি অগ্নিকান্ডের খবর এসেছিল। বপসি তিনটি স্থানেই যাবার সুযোগ পেল। ভিন্ন ভিন্ন ফায়ার ইঞ্জিন, প্যারামেডিকের ভ্যান, এমনকি ফায়ার চীফের গাড়িতে বসার সৌভাগ্য হয়েছিল তার। স্থানীয় একটি খবরে বপসির চেহারাও টেলিভিশনে দেখানো হল বেশ কয়েকবার।

দমকল কর্মী ছোট্ট বপসি

এত ভালোবাসা ও যত্নে বপসি এতোটাই অভিভূত হয়ে গেল যে, মনের জোর ও ভালোবাসা তাকে আরো তিন মাস বাঁচিয়ে রাখল। চিকিৎসকরাও এতোটা কল্পনা করতে পারেন নি!

তবে অবশেষে একদিন দুঃখের মুহুর্তটি এল। বপসির শরীরের ক্রিয়া আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যেতে লাগল। সেবায় নিয়োজিত নার্স মনে করতেন মৃত্যুর সময় কারো একা থাকা উচিত নয়। তাই সে ফোন দিল বপসির পরিবারকে। হঠাত তার মনে হল, বপসি একদিনের জন্য দমকল কর্মী হয়েছিল। নার্স ফোন দিল ফিনিক্স ফায়ার ডিপার্টমেন্টে। সেখানকার চীফকে অনুরোধ করে জিজ্ঞাসা করল তারা আসতে পারবে কি না।
চীফ উত্তর দিল,
“আমরা এর চাইতেও ভালো কিছু করতে পারি। পাঁচ মিনিটের মাঝে আমরা আসছি। আপনি বরং এক কাজ করুন। যখন আমাদের লাইট ও সাইরেন টের পাবেন, পিএ সিস্টেমে সবাইকে আশ্বস্ত করবেন যে কোথাও আগুন লাগে নি। ফায়ার ডিপার্টমেন্ট তাদের চমৎকার একজন কর্মীকে দেখতে আরো একবার আসছে। আপনি তার ঘরের জানালাটিও খোলা রাখবেন।”

পাঁচ মিনিট পর দেখা গেল, হুক ও মইয়ের সাহায্যে পাঁচজন দমকল কর্মী তিনতলা বেয়ে বপসির ঘরে প্রবেশ করছে। তার মায়ের অনুমতি নিয়ে বপসিকে জড়িয়ে ধরে তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করল। কান্না ভেজা চোখে বপসি চীফকে জিজ্ঞাসা করল,
“আমি সত্যিই কি এখন একজন দমকল কর্মী?”
“হ্যা বপসি। তুমি এখন একজন দমকল কর্মী।”

কথাগুলো শোনার সাথে সাথে বপসি হেসে তার চোখদুটো চিরদিনের জন্য বন্ধ করল।

আমাদের চারপাশে এমন অসংখ্য মানুষ আছে, যারা তাদের জীবনের শেষ দিনগুলো কাটাচ্ছে এমন ছোট ছোট স্বপ্ন পূরণ না হবার হতাশায়। আমরা কি পারি না আমাদের সাধ্যের মাঝে তাদের জন্য কিছু করতে, তাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলতে?
আজ আর নয়। থাকুন প্রিয়লেখার সাথেই।

(মর্মস্পর্শী এই সত্য ঘটনাটি সংগ্রহ করা হয়েছে ওয়েবঅভলাভ থেকে)