অনাবিষ্কৃত তিনটি বিখ্যাত গুপ্তধনের আখ্যান - প্রিয়লেখা

অনাবিষ্কৃত তিনটি বিখ্যাত গুপ্তধনের আখ্যান

ahnafratul
Published: August 14, 2017

আচ্ছা, আপনি এডভেঞ্চার গল্প পড়তে ভালোবাসেন? ভালোবাসেন সুবিশাল অরণ্য কিংবা মরুভূমিতে ঘুরে বেড়াতে?
আচ্ছা, আপনি কি গুপ্তধনের গল্প শুনলে শিহরিত হয়ে ওঠেন? ভাবেন, ইশ! আমিও যদি খুঁজে পেতাম এমন একটি গুপ্তধন কিংবা সাত রাজার মাণিক? আপনাকে সেভাবে কোন গুপ্তধনের খোঁজ হয়ত আমরা দিতে পারব না, তবে প্রিয়লেখার আজকের পর্বে থাকছে পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু রহস্যের মিশেল।
গুপ্তধন শিকারীদের কাছে গুপ্তধন চিরকালই একটি মহার্ঘ্য বস্তু। তবে তা খুঁজে পাওয়া না গেলে কিংবা অনাবিষ্কৃত থাকলে যেমন মানুষের কাছে আগ্রহের সৃষ্টি করে,ঠিক তেমনি বেড়ে যায় এর অ্যান্টিক মূল্য। আজ দেয়া হল পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু গুপ্তধনের অনাবিষ্কৃত রহস্যের আখ্যানঃ

ফ্লোর ডে লা মারের গুপ্তধনঃ


দ্য ফ্লোর ডে লা মার(সমুদ্রের ফুল) একটি পর্তুগীজ ক্যারাক যেটি তৈরি করা হয়েছিল ১৫০২ সালে, লিসবনে। জলপথের ইতিহাসে এই ক্যারাকের নানা গল্প প্রচলিত আছে এবং দিউ এর যুদ্ধে এই ক্যারাকটি অংশগ্রহণ করেছিল।
আলফোনসো দ্য আলবুকার্ক ছিলেন এই জাহাজের নাবিক। রাজা সিয়ামের জন্য প্রচুর ধনরত্ন নিয়ে এই ক্যারাকটি আলফোনসোর নেতৃত্বে মালাক্কা থেকে রওনা হয়েছিল। পর্তুগীজ নৌ ইতিহাসে এটিই হচ্ছে সবচেয়ে বড় জাহাজ যেটি এত বিপুল পরিমাণ ধনরত্ন নিয়ে সাগরের বুকে ভেসেছিল। আরো চারটি জাহাজের সাথে ফ্লোর ডে লা মার রওনা হয়েছিল কিন্তু মালাক্কা জলপ্রণালীর কাছাকাছি আসার পর এটি ভয়ঙ্কর ঝড়ের মুখোমুখি হয় এবং ১৫১১ সালের ২০ শে নভেম্বর সুমাত্রার কাছে এটি ডুবে যায়।
জাহাজটি দু টুকরো হয়ে যায় কিন্তু নাবিক আলফোনসো বেঁচে যায়। কিন্তু সমুদ্রের অতলে হারিয়ে যাওয়া ফ্লোর ডে লা মারের গুপ্তধন উদ্ধার করা কখনো সম্ভব হয় নি।

হারানো শহর পাইতিতির গুপ্তধনঃ


আপনারা অনেকেই হয়ত এল ডোরাডোর গল্প শুনেছেন। এল ডোরাডো হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার একটি শহর যেখানে প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণ হারিয়ে গিয়েছিল। মূলত, এল ডোরাডো হচ্ছে একজন মুইস্কা চীফট্যানের কিংবদন্তীর গল্প যিনি কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আগে নিজের শরীরকে স্বর্ণ দিয়ে মুড়িয়ে নিতেন।
প্রকৃত স্বর্ণের শহরের নাম হচ্ছে পাইতিতি। স্প্যানিশরা ইনকাদের সাথে প্রায় চল্লিশ বছরের একটি যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। ইনকারা ভিল্কাবাম্বা নামক উপত্যকায় পলায়ন করতে বাধ্য হয় এবং ১৫৭২ সাল পর্যন্ত তারা স্প্যানিশদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সমর্থ ছিল। স্প্যানিশরা যখন ইনকাদের যুদ্ধে পরাস্ত করে, তখন তারা দেখতে পায় যে শহরে জনমানব বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এটা মনে করা হয় যে, ইনকারা শহর ছেড়ে চলে যাবার সময় তাদের সাথে থাকা বিপুল পরিমাণে স্বর্ণ সরিয়ে ফেলতে সমর্থ হয়। ইনকাদের নিয়ে যাওয়া ঐ স্বর্ণ আর কখনওই উদ্ধার করা সমর্থ হয় নি।


২০০৯ সালে একটি স্যাটেলাইটে সাহায্যে তোলা ছবিতে দেখা যায় ব্রাজিলের বোকো দো এক্রা নামক স্থানে প্রাচীন এক গোষ্ঠীর অবস্থানের নিশানা পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে পাইতিতি নামক শহরটি আসলেই কোন এক সময় ছিল এবং ইনকাদের বিপুল স্বর্ণের অংশটিও নেহাত মিথ নয়।

রাজা জনের গুপ্তধনঃ
রাজা জন “দ্য ব্যাড” এর একটি বেশ মজার স্বভাব ছিল। তবে তার এই স্বভাবটি অনেকের জন্য ছিল ক্ষতির কারণ। রাজা জন অলঙ্কার চুরি করতে পছন্দ করতেন। এর মাধ্যমে তিনি তার সংগ্রহশালা বাড়িয়ে তুলতেন। এসব অলঙ্কার বেশিরভাগই ছিল স্বর্ণে মোড়ানো নয়ত স্বর্ণের তৈরি।


১২১৬ সালে রাজা জন নর্থফোকের দিকে রওনা করেন। তিনি দ্য ওয়াশ নামক একটি জায়গায় পৌছে যান যেটি কুখ্যাত ছিল নানান ধরণের বিপদ সংকুলতার জন্য। জন একটি রাস্তা ধরে এগিয়ে যান যেটি তিনি মনে করেন তার জন্য খুব সহজ হবে। তার কাছে বেশ কিছু মূল্যবান সম্পদ ছিল। জার্মানীর সম্রাজ্ঞীর দাদীর একটি মুকুট ছিল তার কাছে। এছাড়াও নানা ধরণের স্বর্ণালঙ্কার ছিল তার কাছে।
সাটন ব্রিজের কাছে এসে তারা একটি ফাঁদে পরে যান এবং ব্রিজ ভেঙ্গে তারা নিচে পরে যান। হারিয়ে যায় মহামূল্যবান সম্পদগুলো। এগুলি আর কখনওই উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। এর কিছুদিন পর ১২১৬ সালের ১৮ অক্টোবর রাজা জন মৃত্যুবরণ করেন। গুপ্তধন শিকারীদের কাছে রাজা জনের গুপ্তধনের আকর্ষণ সর্বদা শিহরিত করে তুলেছে।

আজ আর নয়। থাকুন প্রিয়লেখার সাথেই।